.............. ................ ................... ................... নরসিংদীর  নদ-নদী

নরসিংদীর নদী

সরু ফিতার মতো দেখতে এই পানির প্রবাহটা পাহাড়িয়া নদীর। এটির অবস্থান নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় ।

হারিয়ে যাচ্ছে নরসিংদীর হাড়িধোয়া নদী

দখল আর দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী হাড়িধোয়া নদী। হাড়িধোয়া নদী দখল ও বিষাক্ত পানিতে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হয়ে এই নদীটি এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
জেলা শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা হাড়িধোয়া নদীটি এক সময় ছিল এই অঞ্চলের জন্য আর্শিবাদ। এই নদী পথে ব্যবসা বাণিজ্যসহ জীবনযাত্রার মানউন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি নদী পাড়ের মানুষের কৃষি জমিগুলো যেমন ছিল ফসলে ভরা, তেমনি নদীতে ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের ছড়াছড়ি। জেলা শহরের বৌয়াকুড়, হাজীপুর, বীরপুর, পুরানপাড়া, বাদুয়ারচর, পুটিয়া, শেরপুর, ভরতেরকান্দি, বেলাব, ঘোড়াদিয়া, সোনাতলা, কারারচর, চরনগরদি, নোয়াকান্দা, গজারিয়া, শালুরদিয়া, লামপুর, তেলিয়া, কুমরাদি, সাধারচর, ক্ষুপি, দুলালপুর, লাক্ষপুর, শিমুলিয়া মহল্লাসহ নদী পাড়ের হাজার হাজার পরিবার নদী দখল বিষাক্ত পানি দূষণে চরম দূর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এক সময় দরিদ্র জেলে পরিবার এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত দখল আর শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য দূষণের ফলে, নদীটি এলাকাবাসীর অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি কারখানার নিজস্ব পাকা নর্দমার মাধ্যমে নদীতে পড়ছে। এতে একদিকে নদীর নব্যতা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে পানি বিষাক্ত হয়ে নদী মাছশূন্য হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা যে কোনো কাজে নদীর পানি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। এর পানিতে গোসল করলে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান নরসিংদী জেলা হাসপাতালের চিকিত্সক মোস্তাফিজুর রহমান।


হাজীপুর গ্রামের জেলে নেপাল চন্দ্র দাস বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই হাড়িধোয়া নদীর মাছ ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু কয়েকটি কলকারখানার বর্জ্যে এই নদীর পানির এমন দশাই হয়েছে যে, মাছতো দূরের কথা সাপ, ব্যাঙসহ জীববৈচিত্র্য আজ সকলই ধ্বংস হয়ে গেছে।
বীরপুর গ্রামের কৃষক হজরত আলী বলেন, হাড়িধোয়া নদীতে গরু-ছাগলের গোসলও করানো যায় না, ফসলের ক্ষেতেও দেওয়া যায় না। এর পানি দিয়ে গোসল করালে গরু ছাগলের চর্মরোগ হয়, আর ফসলি জমিতে নদীর পানি দিলে ফসল মরে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া, শিবপুরের কারারচর এলাকা ও বিসিক শিল্পনগরীর বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানার বর্জ্যে হাড়িধোয়া নদীর পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। আর বিপন্ন হয়ে পড়েছে নদীতে জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব। হাড়িধোয়ার বিষাক্ত পানি মিলিত হয়ে দূষিত হচ্ছে মেঘনা নদীর পানিও। বিষাক্ত পানির দুগর্ন্ধে নদীর তীরের মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণের সাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
কারারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া, মিলন মিয়াসহ এলাকাবাসী জানান, নদীর পানির দুর্গন্ধে বাড়িতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাঁরা শখ করে নদীর তীরে বাড়ি কিনেছিলেন তাঁরা এখন পারলে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, এসব চালু হলে নদীর পরিবেশ দূষণ সমস্যা আর থাকবে না। হাড়িধোয়া নদী রক্ষাসহ পরিবেশ দূষণরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

 
হারিয়ে যাচ্ছে নরসিংদীর হাড়িধোয়া নদী

Copyright 2021 www.narsingdibd.com Concept : Mohammad Obydullah.01674605316. All Rights Reserved.Email: info@narsingdibd.com.