.............. ................ ................... ................... www.narsingdibd.com
মূলপাতা     হোম ফিচার পর্ব -১ পর্ব -২ পর্ব -৩ পর্ব -৪ পর্ব -৫ পর্ব -৬ পর্ব -৭ পর্ব -৮ ফিরেযাই

 নরসিংদীর স্পট ফিচার পর্ব -

        ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৬র ৬ দফা ও ৬৯র গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতালাখো শহীদের তাজা প্রাণের বিনিময়ে এক নদী রক্ত পেরিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রনরসিংদী ছিল দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের মধ্যে সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলভৌগোলিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই মুক্তিযোদ্ধা এবং পাকবাহিনীর কাছে নরসিংদী ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
   ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদ এ জেলারই সন্তানদেশের জন্য এই বীরের জীবন দান জেলার মানুষকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদীর  গৌরবময় ইতিহাস তারই প্রতিফলনস্বাধীনতা যুদ্ধে অসীম সাহসী ভূমিকা রেখে শহীদ হন জেলার আরেক সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
   ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈতৃক বাড়ি মোবারক লজ-এ জন্মগ্রহণ করেনমা সৈয়দা মোবারুকুন্নেসা বাবা মৌলবী আব্দুস সামাদতিনি পেশায় ছিলেন ঢাকা কালেক্টর অফিসের সুপার ছেলে ও দুই মেয়ের পরিবারে জন্ম নেয়া মতিউর ছিলেন অষ্টমছেলেবেলা থেকেই তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, দুরন্ত, ডানপিটে
 ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়১৯৬০ সালে মতিউর কৃতিত্বের সঙ্গে ১ম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন ডিস্টিংশনসহমতিউর ছিলেন একজন চৌকস ক্যাডেটবীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৬৩ সালের ২৩ জুন কমিশন লাভ করে এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন বিমান চালনায় পারদর্শিতার জন্য তিনি সীতারায়ের হরব খেতাবে ভূষিত হন১৯৬৮ সালের ১৯ এপ্রিল বিয়ে করেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে মিলি খানকেবিয়ের কয়েকদিন পরেই মতিউর চলে যান পাকিস্তানের চাকলালা বিমান ঘাঁটিতে১৯৬৯ সালের ২৩ এপ্রিল জন্ম হয় এ দম্পতির প্রথম কন্যা মাহিনেরশহীদ হওয়ার পর বিজয় দিবসের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ জন্ম হয় মতিউরের দ্বিতীয় সন্তান তুহিনের
   ১৯৭১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর সপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে আসেন ঢাকা ২৫ মার্চের কালরাতে হত্যাযজ্ঞের পর তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন নাপাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম  ঝুঁকি ও  সাহসিকতার  সঙ্গে  ভৈরবে  একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুললেন মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন একটি প্রতিরোধ বাহিনীমতিউর ১৯৭১ সালের ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান করাচি পৌঁছে মতিউর লক্ষ্য করলেন বাঙালি অফিসারদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছেতাকেও তার নিজের দায়িত্ব না দিয়ে দেয়া হলো ফ্লাইট সেফটি অফিসারের দায়িত্বমতিউরের চিন্তা তখন শুধু একটি বিমানেরপিআইএ-এর একটি বিমান হাইজ্যাকের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বাঙালি অফিসারদের উপর কড়া নজর রাখা শুরু হয়বাঙালি পাইলটদের আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি বাতিল করা হয়মতিউর তখন করাচির মশরুর বিমানঘাঁটির বেস ফ্লাইট সেফটি অফিসারএর আগে মতিউর ছিলেন ফ্লাইট ইনস্ট্রাকটরতার অনেক পাকিস্তানি ছাত্রের একজন রশিদ মিনহাজ সে পুরাতন ছাত্র মতিউর জানতেন, সে একা আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি পাবেতাই তিনি তাকে টার্গেট করেন১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট শুক্রবারফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মিনহাজের উড্ডয়ন আজমতিউর পূর্ব পরিকল্পনামতো অফিসে এসে শিডিউল টাইমে গাড়ি নিয়ে চলে যান রানওয়ের পূর্ব পাশেসামনে পেছনে দুই সিটের প্রশিক্ষণ বিমান টি-৩৩, রশিদ মিনহাজ বিমানের সামনের সিটে বসে স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসছে  মতিউর হাত তুলে বিমান থামালেনহাতের ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করলেন, বিমানের পাখায় সমস্যারশিদ মিনহাজ বিমানের ক্যানোপি খুলতেই মতিউর তাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে বিমানের পেছনের সিটে লাফিয়ে উঠে বসলেন কিন্তু জ্ঞান হারাবার আগে মিনহাজ বলে ফেললেন, আই হ্যাভ বিন হাইজ্যাক্ড ছোট পাহাড়ের আড়ালে থাকায় কেউ দেখতে না পেলেও কন্ট্রোল টাওয়ার শুনতে পেল তাবিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতিউর বিমান নিয়ে ছুটে চললেনরাডারকে ফাঁকি দেয়ার জন্য নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে অনেক নিচ দিয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন তিনিযদিও ততক্ষণে এফ-৮৬ ও একটি হেলিকপ্টার তাকে ধাওয়া করা শুরু করে কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশেবিমানটি যখন ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাচ্ছে তখন মিনহাজের জ্ঞান ফিরে আসে এবং সে বাধা দিতে চেষ্টা করে সীমান্ত থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরত্বে সিন্ধু প্রদেশের জিন্দা গ্রামে বালির ঢিবির উপর আছড়ে পড়ে১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট দেশের জন্য শহীদ হন আমাদের এই বীর সন্তান মতিউরমতিউরের বিমান হাইজ্যাকের স্বপ্ন সফল হলো নাএরপর মতিউর ও মিনহাজের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং কোনো প্রকার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া মশরুর বিমান ঘাঁটিতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে মতিউরের লাশ দাফন করা হয়তার কবরে লেখা হয় গাদ্দার বা বিশ্বাসঘাতকদীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৫ জুন তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে আনা হয়২৬ জুন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়
শহর থেকে ৪০ কি. মি. পূর্বে রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে জাতির সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের বাড়িবীরশ্রেষ্ঠ এই শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে রামনগর হাই স্কুল প্রাঙ্গণে নির্মিত হয় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর

 

Copyright 2021 www.narsingdibd.com Aestheticsand Mohammad Obydullah.01674605316. All Rights Reserved.